আমিনুল ইসলাম, দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর পুঠিয়ায় অর্ধকাঠা জমির মালিকানা নিয়ে ফুফু-ভাতিজার বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। একই জমি দুই দফায় ভিন্ন ব্যক্তির নামে বিক্রির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন সুফিয়া বেগম ও তাঁর পরিবার।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বানেশ্বর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর পুত্রবধূ মুক্তি খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ২০১৬ সালে জমির মালিক মানিকের কাছ থেকে সুফিয়া বেগম বৈধভাবে অর্ধকাঠা জমি ক্রয় ও রেজিস্ট্রি করেন। কিন্তু ২০২৩ সালে একই জমি পুনরায় সুফিয়ার ভাই আলমের ছেলে সুজনের নামে বিক্রি করা হয়। এরপর থেকেই জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জমির দখলকে কেন্দ্র করে সুফিয়া বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর একাধিকবার হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
সুফিয়া বেগম বলেন, তাঁর মা জীবদ্দশায় সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করে দিয়েছিলেন। মায়ের নামে থাকা তিন কাঠা জমিই ছিল তাঁর শেষ সম্বল। অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সেই সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি তাঁর বৈধভাবে কেনা জমির মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।
মুক্তি খাতুন জানান, গত ১০ জুন বাড়িতে নির্মাণকাজ চলাকালে জমির পাশের কাঁটা সরাতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে সুফিয়া বেগম মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং কয়েকটি সেলাই দিতে হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরাও আহত হন বলে দাবি করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় সুফিয়া বেগমের গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পরিবারের দাবি, থানায় অভিযোগ দিয়েও কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। একই সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিসেও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিরোধের ঘটনায় প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বিউটির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সুজন। তিনি বলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তিনবার সালিস হয়েছে এবং হোল্ডিং রেকর্ডে ওই জমির কোনো অস্তিত্ব নেই। তাঁর দাবি, সুফিয়া বেগম তাঁর আপন ফুফু এবং তাঁরাই জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দুলাল বলেন, বিষয়টি আগে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাছে আসেনি। কয়েক দিন আগে সুফিয়া বেগম অভিযোগ জানিয়েছেন।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, থানায় কেউ আইনি সহযোগিতা চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টি পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.