নিজস্ব প্রতিবেদক,গাজীপুর
দেশের অন্যতম কাঁঠাল উৎপাদনকারী জেলা গাজীপুরে এখন জমজমাট কাঁঠালের বাজার। বিশেষ করে শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলার হাট-বাজারে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাঁঠাল রপ্তানির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় বছরে গড়ে প্রায় ৭৮ হাজার টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। বর্তমানে উৎপাদিত কাঁঠাল বিদেশে রপ্তানির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
কাঁঠালের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের শ্রীপুর ও কাপাসিয়ার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে অসংখ্য কাঁঠাল গাছ। শ্রীপুরের জৈনাবাজারে বসেছে জেলার সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এখানে এসে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে দাম কিছুটা কমে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুমের শুরুতে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি হয়েছে। এ মৌসুমে কাঁঠাল বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, জৈনাবাজার থেকে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল যায় নোয়াখালী অঞ্চলে। প্রতিদিন বাজার থেকে যে ২০টি ট্রাক বা পিকআপ কাঁঠাল নিয়ে যায়, তার মধ্যে প্রায় ১৫টিই নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় যায়।
এদিকে, পাশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থেকেও অনেক কৃষক কাঁঠাল বিক্রির জন্য জৈনাবাজারে আসছেন। তবে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের।
কৃষকদের অভিযোগ, কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া কাপাসিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৩২টি হাট-বাজারে মৌসুমি ফল বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় কম দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
কাপাসিয়ার সিংহশ্রী গ্রামের এক কৃষক বলেন, সরকারি উদ্যোগে কাঁঠাল চাষের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, সংরক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য পাবেন। বিদেশে কাঁঠালের চাহিদা থাকায় রপ্তানি বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, "শ্রীপুরে বছরে গড়ে প্রায় ৭৮ হাজার টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। চলতি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাঁঠাল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কাঁঠাল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়েও কাজ চলছে।"
কৃষকদের দাবি, সংরক্ষণাগার, আধুনিক বাজারব্যবস্থা ও রপ্তানি সুবিধা বাড়ানো গেলে গাজীপুরের কাঁঠাল দেশের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.