মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণা এলাকায় অবস্থিত প্রত্যয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টু প্রায় ৪০০ গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান, বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা সমিতিতে ১০ থেকে ১২ শতাংশ লাভের আশায় সঞ্চয় ও আমানত হিসেবে লাখ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। গত ৪ জুলাই সমিতির পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টু গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছেন বলে তারা জানতে পারেন। এরপর থেকে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা, উপজেলা সমবায় অফিস ও সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করে আসছেন।
ভুক্তভোগী প্রভাতী বিশ্বাস জানান, তিনি ১০ শতাংশ লাভের আশায় সমিতিতে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন। কয়েক মাস ধরে টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন পরিচালক উধাও হয়ে গেছেন।
আরেক গ্রাহক রিনা বিশ্বাস বলেন, শ্রমিকের কাজ করে কষ্টের উপার্জনের ১২ লাখ টাকা সমিতিতে জমা রেখেছিলেন। প্রতি মাসে লভ্যাংশ পেলেও এখন মূলধন ফিরে পাওয়ার কোনো আশা দেখছেন না। একইভাবে সাবিত্রি বিশ্বাস অভিযোগ করেন, মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো দুই লাখ টাকা সমিতিতে রেখে এখন তিনি দিশেহারা।
সমিতির হিসাবরক্ষক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, পরিচালক সেন্টু শার্শায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। বর্তমানে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তার কাছেও টাকা ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দীপক কুমার রায় বলেন, তিনি আগে থেকেই এলাকাবাসীকে ওই সমিতিতে টাকা না রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এখন অনেকেই তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রশাসক আলমগীর হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রঞ্জিত কুমার বলেন, গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন। তবে সমিতির অডিট প্রতিবেদনে অভিযোগকারী অনেক গ্রাহকের নাম পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জেলা সমবায় কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে, কারণ সমিতির নিবন্ধন ও লাইসেন্স জেলা পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ বলেন, বিষয়টি জানা গেছে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (চলতি দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.