আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪) হত্যাকাণ্ডের দুই সপ্তাহ পরও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবির পাশাপাশি এবার প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারে এখনও শোকের ছায়া। ছেলে সুমনের ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা শেফালী বেগম। তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমার সন্তান আর ফিরে আসবে না, তবে আমি ন্যায়বিচার চাই।”
গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় বড়ভাগ পূর্বপাড়ায় পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন কাশিয়ানী উপজেলার এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন শেখ। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে মামলার আসামিপক্ষের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর তাদের একাধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। সরেজমিনে আব্দুল আলীম শেখ, শাহাদাৎ শেখ, হোসাইন শেখ, উকিল শেখ, রাকিব সর্দার ও আলিম শেখের বাড়িসহ অন্তত আট থেকে ১০টি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা গেছে।
আলিম শেখের স্ত্রী শাপলা বেগম দাবি করেন, হামলায় তাদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে শাহাদাৎ শেখের স্ত্রী মর্জিনা বেগমের দাবি, তাদের বাড়ি থেকে গরু, ছাগল, ধান-চাল ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা।
উকিল শেখের স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, “হত্যার বিচার অবশ্যই আইনের মাধ্যমে হোক। কিন্তু বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
তবে নিহতের ভাই শামীম শেখ ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হত্যার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা দ্রুত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান বলেন, হত্যা মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “কোনো অপরাধের প্রতিকার আরেকটি অপরাধ হতে পারে না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.