শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে লিবিয়ায় নিখোঁজ দাবি করা এক যুবক দেশে ফিরে এসেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে দুজন প্রবাসীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই যুবকের বাবা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত দালালকে বাদ দিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে নিরীহ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।
মামলার বাদী সদর উপজেলার উত্তর ভাষানচর গ্রামের দেলোয়ার চৌকদার। তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলে মানিক চৌকদার ২০২৫ সালে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় যান। সেখানে তাকে জিম্মি করে নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে উদ্ধার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে তিনি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, শরীয়তপুরে গত ২৮ জুন পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, মানিক ২০২৬ সালের ৬ মে দেশে ফিরে আসেন এবং কোরবানির ঈদের সময় নিজ এলাকায় অবস্থান করেন। এমনকি একাধিক স্থানীয় সালিশেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে তার পরিবার এখনও দাবি করছে, মানিক নিখোঁজ এবং দেশে ফেরেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মানিককে লিবিয়ায় নেওয়া এবং ইতালিতে পাঠানোর বিষয়ে নড়িয়া উপজেলার সুজন ছৈয়ালের সঙ্গে তার সরাসরি লেনদেন ছিল। কিন্তু মামলায় সুজনকে আসামি করা হয়নি। এছাড়া যাদের হিসাবে বিদেশে পাঠানোর টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, তাদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এ ঘটনায় মামলার ৩ নম্বর আসামি এনামুল বেপারী ও ৪ নম্বর আসামি মাতুল খাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসামি এনামুল বেপারীর স্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতা ও চাঁদা দাবির জেরে তাদের পরিবারকে হয়রানি করতে এই মামলা করা হয়েছে। বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে তাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদেশে অবস্থানরত মামলার আরেক আসামি আমিনুল ইসলাম ইমোতে বলেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি কোনো অর্থ নেননি এবং মানিককে বিদেশে পাঠানোর সঙ্গেও যুক্ত নন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বাদী দেলোয়ার চৌকদার অবশ্য দাবি করেন, তার ছেলে এখনও নিখোঁজ এবং দেশে ফেরেননি। তবে স্থানীয়দের দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং বিদেশে থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল রনি বলেন, তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারা আদালতের ওপর আস্থা রাখছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.