নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মো. শহিদুল আলমের স্ত্রী মোছা. ফাতেমা খাতুনকে অজ্ঞান করে হত্যা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হাসিনা বেগম এবং লুট করা স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে হাসিনা বেগম সাবেক অধ্যাপক শহিদুল আলম ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে ওষুধ কেনার অজুহাতে তাঁদের সেখানে নিয়ে যান। একপর্যায়ে অধ্যাপক মিষ্টি কিনতে গেলে হাসিনা কৌশলে ফাতেমা খাতুনকে একটি রিকশায় তুলে জুসের সঙ্গে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করান।
অচেতন হয়ে পড়লে তাঁর পরনের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নওগাঁ শহরের ময়লাপট্টি এলাকার নদীর পাড়ে একটি বেঞ্চে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জুন তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।
তদন্তে ৮০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৫ জুলাই নওহাটা এলাকা থেকে হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, লুট করা স্বর্ণালংকার জোয়ারদার জুয়েলার্সের ব্যবসায়ী ইমরানের কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন হাসিনা। পরে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনিও স্বর্ণালংকার কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, হাসিনা বেগম শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে একই কৌশলে নওগাঁ শহর ও আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকজন নারীর স্বর্ণালংকার ও টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ শহরে অজ্ঞান পার্টিসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ কঠোরভাবে দমন করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.