মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কাউরাট মাইজপাড়া গ্রামের ১০৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মাকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে একটি দিনমজুর পরিবার। মাত্র ৭ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আদালতে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারটির দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা দায়ের করেছে। অন্যদিকে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠায় তারা করেছেন আরও ২টি মামলা। ফলে একই জমি নিয়ে বর্তমানে মোট ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বৃদ্ধার তিন ছেলে—নূর মোহাম্মদ, সবুজ মিয়া ও নুরুল হক (পুতুল মিয়া)—দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের অভিযোগ, ঘন ঘন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে নিয়মিত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সংসারের একমাত্র আয়ের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসা, পরিবারের খাবার এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
নূর মোহাম্মদ বলেন, “আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত যে রায় দেবেন সেটিই মেনে নেব। কিন্তু বারবার আদালতে যেতে হওয়ায় কাজ করতে পারি না। ফলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।”
পরিবারটির ভাষ্য, বিরোধপূর্ণ জমির বৈধ কাগজপত্র ও নামজারি তাদের নামে রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ একই জমির মালিকানা দাবি করে ধারাবাহিকভাবে মামলা করে যাচ্ছে।
নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান কাউসার জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আঙ্গুর মিয়া দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ ৭ শতাংশ জমিটি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি। ভুলবশত জমিটি নূর মোহাম্মদদের নামে রেকর্ড হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাই প্রকৃত মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন, তাই আদালতের রায়ই চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, নূর মোহাম্মদদের পরিবার আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা জেলা প্রশাসক ও জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির (লিগ্যাল এইড) কাছে মানবিক সহায়তা ও বিষয়টি তদন্তের আবেদন জানাবেন।
১০৭ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের কাঁপা কণ্ঠে একটাই আকুতি, “জমির বিচার আদালত করবেন, আমরা শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই। ছেলেগুলো যেন কাজ করে দুই মুঠো ভাত জোগাড় করতে পারে।
মাত্র ৭ শতাংশ জমিকে কেন্দ্র করে চলমান আইনি লড়াইয়ের মধ্যে একদিকে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া, অন্যদিকে একটি দরিদ্র দিনমজুর পরিবারের জীবন-জীবিকার সংকট—দুই বাস্তবতার মাঝখানে মানবিক সমাধানের প্রত্যাশায় দিন কাটছে কাউরাট মাইজপাড়ার এই পরিবারের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.