আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নওয়াপাড়া ও বুধহাটা এলাকায় বেতনা নদীর ভেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও দীর্ঘ ভাঙন দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে দোকানপাট, বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (১৮ জুলাই) সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রবিউল বাশার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত বাঁধ রক্ষার কাজ শুরুর আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতনা নদীর নওয়াপাড়া অংশের বিপরীত তীরে অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন করে কাজ অসমাপ্ত রাখায় নদীর প্রবল স্রোত সরাসরি নওয়াপাড়া ভেড়িবাঁধে আঘাত হানছে। এতে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ হাত এলাকায় বাঁধের নিচের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং মূল বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ১০০ হাতজুড়ে মূল বাঁধে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রতিনিয়ত বিস্তৃত হচ্ছে। গত দুই দিনে ফাটলের কারণে বাঁধের মাটি প্রায় দেড় থেকে দুই হাত নিচে নেমে গেছে।
এমপি রবিউল বাশার সকালে নওয়াপাড়ার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় জজ কোর্টের এপিপি, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দ্রুত বাঁধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে বুধহাটা, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম, হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি এবং অসংখ্য মৎস্যঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরে এমপি বুধহাটা বাজারের খেয়াঘাটসংলগ্ন ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে বাজারের একাংশ, বুড়োপীরের দরগাহ এবং দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির-সংলগ্ন এলাকায়ও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
পরিদর্শন শেষে হাফেজ রবিউল বাশার স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন, “ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.