যশোর প্রতিনিধি
সংস্কারের মাত্র তিন মাসের মাথায় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শেষ হলেও বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে যাওয়া, ভাঙন এবং জলাবদ্ধতার কারণে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই নতুন সংস্কার করা সড়কগুলো এত দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা এ ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কের ছয় কিলোমিটার সংস্কারে ব্যয় হয় প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া চৌগাছা-পুড়াপাড়া, পুড়াপাড়া-রামকৃষ্ণপুর, গয়ড়া-মাশিলা, কমলাপুর মোড়-মাশিলা, দামোদর বটতলা-স্বরূপদাহ এবং সৈয়দপুর-সাতমাইল সড়কেও ব্যাপক সংস্কারকাজ করা হয়।
তবে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কালভার্টের সংযোগস্থলে ভাঙন দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কার্পেটিংয়ের সময়ই নিম্নমানের ম্যাকাডম ব্যবহারের অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে সময় অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে এখন কোটি টাকার সড়ক ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
এদিকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডুকে গত ৬ জুলাই স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনো বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করছেন এবং সরকারি বাসভবনও ছাড়েননি। এছাড়া সরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে।
অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডু বলেন, "ইরান যুদ্ধের কারণে বিটুমিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদাররা কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলেন। এরপরও আমরা কাজের মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।"
যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুর রহমান বলেন, "সড়ক নির্মাণে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, "দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে সড়কগুলো সংস্কার করা হয়েছে। তবে কাজে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত মেরামত এবং নির্মাণকাজের মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.