জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট (গড়িয়া ইট) ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের ইট অপসারণ করে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিলেও প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলার পুনট ইউনিয়নের ডিংড়াপাড়া মোড় থেকে বাঁশের ব্রিজ পর্যন্ত ১ হাজার মিটার সড়কে এ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১ হাজার মিটার সড়কে ইট বিছানো এবং ১০০ মিটার প্যালাসাইডিং নির্মাণের জন্য প্রায় ৮০ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কাজটি পায় মেসার্স ফারিয়া কনস্ট্রাকশন। তবে প্রতিষ্ঠানটি কাজটি বগুড়ার শিবগঞ্জের সুমন মিয়ার কাছে হস্তান্তর করে বলে জানা গেছে। চুক্তি অনুযায়ী গত ২৮ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ১০ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হলেও প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন ভয়ভীতি দেখান। পরে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিষয়টি দেখভাল করেন। এরপরও একই ধরনের ইট দিয়ে কাজ চলতে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা গোবিন্দ চন্দ্র বলেন, “সড়কে খুবই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এখনই ইট ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে রাস্তা টেকসই হবে না। প্রতিবাদ করায় আমাদের মামলা ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
ডিংড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন মিয়া বলেন, “গড়িয়া ইট পানিতে ভিজিয়ে ভালো ইটের মতো দেখিয়ে কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ঠিকাদারের লোকজন নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করেছেন।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই অনিয়ম হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগের এক মাস পরও নিম্নমানের ইট অপসারণ না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে মেসার্স ফারিয়া কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী সোহাগ হোসাইন বলেন, “কাজটি সুমন মিয়া করছেন। তাকে চিঠি দিয়ে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে বলা হয়েছে। তা না হলে বিলে স্বাক্ষর করা হবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে সাফ ঠিকাদার সুমন মিয়া বলেন, “বর্ষার কারণে ইটগুলো এখনো তুলতে পারিনি। দ্রুত নিম্নমানের ইট অপসারণ করে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হবে। মামলা বা মারধরের হুমকির অভিযোগও সঠিক নয়।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম বলেন, “নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে ইট অপসারণ এবং সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি।”
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, “সিডিউল অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.