মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
পদ্মা নদীতে নৌযান থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়ের জন্য ইজারা নেওয়ার পর নির্ধারিত সীমানা বুঝে না পাওয়ায় কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইজারাদার। প্রায় এক মাস পার হলেও ইজারাকৃত এলাকা বুঝে নিতে না পারায় রাজস্ব আদায় কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি তিনি।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ভাটির দিকে আজিমনগর ও ধুলশুরা ইউনিয়নের শেষ সীমানা থেকে গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী এবং সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার তেকানী, মুনসুরনগর ও খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সীমানা পর্যন্ত নৌপথে চলাচলকারী নৌযান থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়ের ঘাট/পয়েন্টটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়।
গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত পঞ্চম দফা নিলামে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পান মো. নাসির উদ্দিন। তাঁর প্রতিষ্ঠান গ্রুপ অন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড। তবে ইজারা পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত নির্ধারিত সীমানা বুঝে না পাওয়ায় কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর ও ধুলশুরা এলাকায় ইজারাকৃত স্থান বুঝিয়ে দিতে গিয়ে দুই দফা বাধার মুখে পড়েন বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে পদ্মা নদীতে চলাচলকারী বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইজারাদার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “সরকারি নিয়ম মেনে ইজারা নেওয়ার পর নির্ধারিত স্থান বুঝে নিতে গেলে পাঁচটি স্পিডবোটে করে কয়েকজন এসে আমাকে ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের ঘিরে ফেলে। তারা আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং নিরাপত্তার কারণে সেখান থেকে ফিরে আসতে হয়। প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও চ্যানেল বুঝে পাইনি। এতে আমার প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদীবন্দরের উপপরিচালক সুব্রত রায় বলেন, “ইজারাকৃত স্থান বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমি ও ইজারাদার নাসির উদ্দিন দুইবার হরিরামপুরের পদ্মা নদীতে যাই। সেখানে পাঁচটি স্পিডবোট আমাদের ঘিরে ধরে এবং চ্যানেল বুঝিয়ে দিতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা ফিরে আসি।”
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, নির্ধারিত সময়ে চ্যানেল চার্জ আদায় কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় ইজারাদারের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায় নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.