মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের মধুখালীতে টানা বৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ মরিচক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে গাছ পচে নষ্ট হওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। বর্তমানে স্থানীয় আড়তে প্রতি মণ কাঁচা মরিচ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকায়।
কৃষি প্রধান উপজেলা হিসেবে পরিচিত মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করা হয়েছে। তবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের চাষিরা।
মরিচের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে চাষ করা মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেতও বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের লোকসান আরও বেড়েছে।
রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক টুকু মণ্ডল জানান, ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে সব গাছ মারা গেছে। এখন তিনি মরিচক্ষেত তুলে সেখানে ধানের আবাদ করবেন। তিনি বলেন, “চাষে যে খরচ করেছি, তার অর্ধেকও উঠেনি। সরকার ক্ষতিপূরণ দিলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।”
কৃষক খসরু মিয়া বলেন, “সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়েছে। তার ওপর বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। সরকারি সহযোগিতা পেলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।”
কৃষক শফিক শেখ বলেন, “মরিচ গাছ আর বাঁচবে না। তাই গাছ তুলে এখন ধানের আবাদ করাই একমাত্র উপায়।”
আরেক কৃষক লালচান মোল্লা বলেন, “সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ালে কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারব।”
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব ইলাহী বলেন, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে ৫০ শতাংশের বেশি ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধুখালী কাঁচা মরিচ আড়তের ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান মোল্যা ও মির্জা আবু জাফর জানান, বাজারে সরবরাহ কম থাকায় প্রতি মণ কাঁচা মরিচ ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। তাদের মতে, উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতে মরিচের দাম আরও বাড়তে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.