দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ এবং ইছামতী নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উচ্ছেদ অভিযান বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসন্তপুর স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় গেট খালাসির জন্য নির্মিত পাউবোর একটি পাকা ঘর দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, দেবহাটা গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে, সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হোসেন ওই ঘর ও জমি দখল করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি জমি দখল করে প্রথমে পলিথিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয় এবং পরে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের পর কয়েক দিন আগে পাউবোর কালীগঞ্জ উপবিভাগের একজন উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) ও সাতক্ষীরা কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের দাবি, পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তারা দখলদারকে মৌখিকভাবে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বললেও এখন পর্যন্ত কোনো উচ্ছেদ অভিযান বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এদিকে ইছামতী নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে মাছ চাষের সুবিধার্থে পানি ওঠানামার জন্য বাঁধ কেটে সংযোগ তৈরির অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতে বেড়িবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে, নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ, তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.