রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
বিশ্ব বাঘ দিবসে আশার বার্তা দিচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। এক সময় যেখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল, সেখানে এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা। কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা, কঠোর নজরদারি এবং পর্যাপ্ত খাদ্যের প্রাপ্যতায় সুন্দরবনে ফিরছে বাঘের সুদিন।
বন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয় ১১৪টি। আর ২০২৪ সালে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের চাঁদপাই-শরণখোলা রেঞ্জজুড়ে ৬৫৭টি ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত জরিপে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৫টিতে। অর্থাৎ গত নয় বছরে সুন্দরবনে বেড়েছে ১৯টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
শুধু সংখ্যাই নয়, মাঠপর্যায়েও বদলে গেছে পরিস্থিতি। কটকা, কচিখালী ও শরণখোলা এলাকায় নিয়মিত বাঘের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। বন বিভাগের ক্যামেরা ট্র্যাপেও ধরা পড়ছে নতুন নতুন বাঘের ছবি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে ভ্রমণে যাওয়া অনেক পর্যটকও সরাসরি রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘের প্রধান খাদ্য চিত্রা হরিণ ও বন্য শূকরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় বনাঞ্চলের খাদ্যশৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫ সালের গবেষণায় সুন্দরবনে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি চিত্রা হরিণ এবং ৪৭ হাজার ৫১৫টি বন্য শূকরের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ফলে বাঘের খাদ্যসংকট অনেকটাই কমেছে।
তবে এই ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছাতে দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগ এলাকায় ৬২টি বাঘ বিভিন্ন কারণে মারা গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ২০২৪ সালের সর্বশেষ জরিপের পর নতুন করে কোনো বাঘের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মানুষের হাতে বাঘ হত্যার ঘটনা কিংবা বাঘের আক্রমণে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ খুলনা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার রায় বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে সুন্দরবনে বাঘের উপস্থিতি অনেক বেশি দৃশ্যমান। পর্যটকদের পাশাপাশি বন বিভাগের ক্যামেরা ট্র্যাপেও নিয়মিত বাঘের ছবি ধরা পড়ছে। নিরাপদ পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত হওয়ায় বাঘের স্বাভাবিক বিচরণ বেড়েছে। এছাড়া হরিণ শিকারিদের ফাঁদ বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে বাঘ এখন তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্ব বাঘ দিবসে সংরক্ষণবিদদের প্রত্যাশা, বর্তমান সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্বের এই অনন্য বনাঞ্চলে বাঘের নিরাপদ আবাস আরও সুসংহত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.