মো.সাইফুল ইসলাম,কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম-ধুলদিয়া ইউনিয়নের আতখলা গ্রামের ১৬৫ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদকে "মিথ্যা, বানোয়াট ও একপাক্ষিক" দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। তাদের দাবি, জমিটি তারা জবরদখল করেননি; বরং বৈধ দলিলের ভিত্তিতে ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
বুধবার আতখলা গ্রামে হাজী রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া (রতন)-এর নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা এসব দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তাদের ‘জবরদখলকারী’ এবং হাজী রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়াকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ জমির মালিকানা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং তাদের কাছে মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র রয়েছে। প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করায় তারা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯১৯ সালের একটি আদালতের মামলার সূত্রে সম্পত্তিটি নিলামে ওঠে। পরে প্রকাশ্য নিলামে দুর্গাদাস চক্রবর্তী জমিটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে সাফ কাওলা দলিলের মাধ্যমে সুলতান ভূঁইয়া সম্পত্তিটি ক্রয় করেন এবং ১৯৩২ সালে তিনি তার স্ত্রীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন। এসব ধারাবাহিক দলিল তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তারা জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৮৮ সালে আর.ও.আর. (R.O.R.) রেকর্ডের বিরুদ্ধে হাজী গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া আদালতে মামলা করে ডিক্রি লাভ করেন। বর্তমানে মাঠ পর্চা-সংক্রান্ত একটি মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তারা বলেন, "আমরা কোনো জবরদখল করিনি। ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে বৈধভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছি।"
সালিশে অংশ না নেওয়ার অভিযোগের জবাবে তারা বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ গোপনে মামলা করায় গ্রাম্য সালিশে না গিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাজী রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়াকে ‘ভূমিদস্যু’ আখ্যা দেওয়ারও প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তাদের দাবি, তিনি একজন পরোপকারী ও নিরীহ ব্যক্তি। তাকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ সময় তারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে প্রতিপক্ষের কয়েকজন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রামের সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় হওয়ার আগে একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানান এবং প্রকাশিত সংবাদের সংশোধন বা প্রত্যাহারের দাবি করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আতখলা গ্রামের ১৬৫ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.