মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর পৌর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া হরিহর নদীর তীরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ খুপরি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন হাফিজুর রহমান ও জোহরা বেগম দম্পতি। বাঁশের খুঁটির ওপর তৈরি চাটাইয়ের মাচা, ঘুনে ধরা কাঠ, পুরোনো চটের বস্তা ও পলিথিন দিয়ে তৈরি সেই ঘরেই পোকামাকড়ের সঙ্গে দিন-রাত বসবাস তাদের।
জোহরা বেগম জানান, তাঁদের পরিবারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বর্তমানে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা থাকেন। নিজেদের জন্য আরেকটি ঘরের আবেদন জানিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গেলেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বাধ্য হয়েই নদীর তীরে অস্থায়ী এই ঘরে বসবাস করছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরটিতে যাওয়ার কোনো চলাচলের উপযুক্ত রাস্তা নেই। ঝোপঝাড় ও অসমতল পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয়। প্রখর রোদে পলিথিনের ছাউনির নিচে অসহনীয় গরম, আর বৃষ্টির সময় ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে পুরো ঘর ভিজে যায়।
জোহরা বেগম বলেন, ভেজা লাকড়ি দিয়ে রান্না করা যায় না। তাই কেরোসিন দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করতে হয়। তিনি আরও জানান, আগে কাছাকাছি একটি জায়গায় অন্যের জমিতে ঘর করে থাকতেন। কিন্তু গত বছর নদী খননের সময় সেই ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। তখন নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।
হাফিজুর রহমান প্রতিদিন ভোরে বের হয়ে ভাঙারি সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দুই ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং তাদের সন্তানও রয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের একমাত্র সরকারি ঘরটিতে ছেলে পরিবার নিয়ে থাকায় স্বামী-স্ত্রীকে আলাদাভাবে এই অস্থায়ী খুপরি ঘরেই বসবাস করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, অসহায় এ দম্পতির জন্য দ্রুত নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে তারা মানবিক পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.