নোয়াখালী প্রতিনিধি
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের মুসলিম কলোনী এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের ভাগ্যে জোটেনি একটি স্থায়ী সেতু। প্রায় ৫৫ বছর ধরে বাঁশ ও কাঠের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার অন্যতম বড় নোয়াখালী খালের ওপর নির্মিত অস্থায়ী এই সাঁকোটিই এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটি ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। অনেক শিক্ষার্থী বই-খাতাসহ পানিতে পড়ে আহত হয়েছে, এমনকি অতীতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে খুব ভয় লাগে। নিরাপদে চলাচলের জন্য দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা পারভিন আক্তার বলেন, বাজারে যাওয়া, হাসপাতালে রোগী নেওয়া কিংবা গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া—সব ক্ষেত্রেই এই সাঁকোই একমাত্র ভরসা। ৫৫ বছর ধরে মানুষ শুধু আশ্বাস পেয়েছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ব্যবসায়ী নাফিস ইকবাল বলেন, ছোটবেলা থেকে এই বাঁশের সাঁকোই দেখে আসছি। বহুবার সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াখালী সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনছুর আহমেদ বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.