আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গণধর্ষণের দাবির সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরেই ওই কিশোরী বাড়ি ছেড়ে কাশিয়ানীতে চলে গিয়েছিলেন। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলার শৈলমারী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইউসুফেরবাগ মহিলা মাদ্রাসার মাওলানা বিভাগের ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী গত ২৩ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রাণ কোম্পানির এসআর সাজ্জাত (২৮)-এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে কাশিয়ানী উপজেলার তার বোনের বাড়িতে চলে যান। পরদিন ২৪ জুলাই ভিকটিমের বাবা মো. কুদ্দুস মোল্যা আলফাডাঙ্গা থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ভিকটিমের বাবা মো. কুদ্দুস মোল্যা জানান, ২৬ জুলাই তার মেয়ে ফোন করে জানান, তিনি নিজের ইচ্ছায় একটি ছেলের সঙ্গে রয়েছেন এবং ভালো আছেন। পরদিন সাজ্জাতের বোন ফোন করে জানান, মেয়েটি কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের কোড়ামারি গ্রামে তাদের বাড়িতে রয়েছেন। পরে ২৮ জুলাই আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে তিনি সেখানে গিয়ে মেয়েকে নিজ হেফাজতে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
ভিকটিম অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে অভিযুক্ত সাজ্জাতের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসির দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) মো. আল-আমিন জানান, ভিকটিম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান বলেন, পরিবার প্রথমে মেয়েটিকে পুলিশি হেফাজতে দিতে রাজি হয়নি। তাদের আশঙ্কা ছিল, বিষয়টি প্রকাশ পেলে ভবিষ্যতে মেয়ের বিয়ে দিতে সমস্যা হতে পারে। পরে সোমবার (৩ আগস্ট) মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাণ কোম্পানির পরিচিত কর্মচারী জয় কুণ্ডু শৈলমারী বাজারে ভিকটিমের বাবার দোকানে মালামালের অর্ডার নিতে গেলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে সন্দেহ করে আটক করেন। পরে কয়েকজন তাকে আলফাডাঙ্গায় নিয়ে এসে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জয় কুণ্ডুর এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এএসপি মো. আজম খান আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি গণধর্ষণের ঘটনা নয় বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ভিকটিম বা তার পরিবার ধর্ষণের মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.