বুটেক্স প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) চার শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. এহসানুল হক রাফি, রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব ও মাহিন জামান।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ল্যাব শেষে বের হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলামকে অনুসরণ করে পকেট গেটের সামনে ঘিরে ধরেন। এ সময় ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমন সরকার, বুটেক্স ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত এবং ৪৮তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ষণ বণিক তাকে মারধর করেন। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে মিরাজের পরনের টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে রাইয়ান সিদ্দিকী পর্বকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আবাসিক হলে মিষ্টি বিতরণ নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করার জেরেই তার ওপর হামলা হয়েছে। তিনি জানান, পকেট গেটের সামনে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে বাধা দিলে তার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
আহত শিক্ষার্থী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব বলেন, মিরাজকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তিনি মোবাইলে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এ সময় বর্ষণ বণিক তার কলার ধরে মুখে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক মন্তব্য ও ‘লীগ’ ট্যাগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। কাউকে মারধর বা জামা ছিঁড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত বর্ষণ বণিকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বুটেক্স ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে সিসিটিভি ফুটেজসহ সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.