চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর কিশোর রাফিজ মিয়া (১৫) হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাবিবপুর মসজিদ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলাম আলমডাঙ্গা উপজেলার খেজুরতলা বাজারপাড়ার মৃত মুরজুল হকের ছেলে। এ নিয়ে আলোচিত এ হত্যা মামলায় মোট তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের মোছা. আমেনা খাতুনের নাতি রাফিজ মিয়াকে ফোন করে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে অপহরণকারীরা রাফিজের পরিবারের কাছে ফোন করে তার কান্নার শব্দ শোনায় এবং ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা একাধিকবার ফোন করে মুক্তিপণের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অপহরণের দিনই রাফিজকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় এবং নির্যাতনের শব্দ শুনিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে আসামিরা রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে এবং মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে গত ১৩ জুন কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনায় জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) এবং আলমডাঙ্গা থানার যৌথ অভিযানে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.