খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পর তা স্থগিত করা হয়েছে। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আগামী রবিবার সমাজসেবা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও এবং মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন নেতা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) চারজন সুপারভাইজার ও ৪৫ জন তথ্য সংগ্রহকারীসহ মোট ৪৯টি পদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। তবে পরদিন শুক্রবার নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়। এসব পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছিলেন ৪৩২ জন।
নিয়োগ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী ও স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব এবং তেরখাদা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অতীশ সরদার। তিনি বলেন, “কারণবশত এই নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।” তবে কী কারণে নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
জানা গেছে, তেরখাদা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। চারজন সুপারভাইজার ও ৪৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী পদের বিপরীতে ৪৩২ জন আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হলেও একদিন পরই তা স্থগিত করা হয়।
এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ও স্থগিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো. আমিনুল ইসলাম আমিন তার ফেসবুক পোস্টে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘নিয়োগ বাণিজ্যের’ অভিযোগ তুলে কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তার পোস্টে বলা হয়, “সমাজসেবা অফিসের এই নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ না হলে আগামী রবিবার সকাল ১০টায় মানববন্ধন হবে ইনশাআল্লাহ।”
অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো. রাজু শেখ তার ফেসবুক পোস্টে আগামী রবিবার সকাল ১০টায় সমাজসেবা অফিস ও ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও এবং মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
এসব পোস্টের পর ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও সমালোচনা করছেন অনেকে।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে কী কারণে বা কোন উদ্যোগের জন্য তারা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নির্বাচন সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি এবং তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা সুলতানা নীলার বক্তব্য জানতে তার সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে হোয়াটসঅ্যাপেও বার্তা পাঠানো হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে নিয়োগ স্থগিতের কারণ ও অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অতীশ সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শুধু নিয়োগ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “কারণবশত এই নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।”
এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় কবে শুরু হবে, চূড়ান্ত হওয়া ৪৯ জনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে এবং ঘোষিত ঘেরাও ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কী—এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.