আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু।
জানা গেছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকে নিয়মিত ও যথাযথ তদারকি ছাড়াই নির্মাণকাজ চলছিল।
বৃহস্পতিবার ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করার সময় নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী কিংবা শিক্ষা অফিসকে ছাদ ঢালাইয়ের বিষয়ে অবহিত করা হয়নি বলে জানা গেছে।
বিষয়টি জানার পর ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডু সংশ্লিষ্টদের ত্রুটিমুক্তভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। তিনি পূর্বনির্ধারিত জরুরি কাজে বাইরে থাকায় উপজেলা প্রকৌশলী ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের বিষয়টি তদারকির জন্য পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে একাডেমিক সুপারভাইজার হাসানুজ্জামানকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরে একাডেমিক সুপারভাইজার হাসানুজ্জামান প্রকৌশল অফিসের সঙ্গে কথা বলে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত স্টোনের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতামত উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।
দুপুরের পর কর্মস্থলে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে ইউএনও সংশ্লিষ্টদের কার্যালয়ে তলব করেন। এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব, একাডেমিক সুপারভাইজার হাসানুজ্জামান, উপসহকারী প্রকৌশলীসহ স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসকে হাসান, সাধারণ সম্পাদক আকাশ হোসেন এবং অন্যান্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব নির্মাণকাজে ব্যবহৃত স্টোনের মান যথাযথ হয়নি বলে মতামত দেন। তিনি জানান, এর আগে একটি পাইল রিজেক্ট করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই রিজেক্ট করা পাইলও ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া রডের ব্যবহারসহ নির্মাণকাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উপস্থিত প্রকৌশলীরা জানান।
একাডেমিক সুপারভাইজার হাসানুজ্জামান বলেন, “আমরা সকালে কাজ না করতে বলে গিয়েছিলাম। কিন্তু এরপরও আমাদের অজান্তে কাজ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “ব্যবহৃত স্টোনের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো ইঞ্জিনিয়ার অফিসের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.