আনিস সুমন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আব্দুল মান্নান (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে এক নারীর বাড়ি থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের পর মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরিনগর গ্রামের চম্পা রানী মল্লিকের বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে স্থানীয় কয়েকজন চম্পা রানী মল্লিকের বাড়ি ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে ঘরের দরজা ভেঙে আব্দুল মান্নানকে আটক করা হয়। পরে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর ও যুবদল নেতা হাফিজ কল্লোল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মান্নানকে উদ্ধার করেন।
আব্দুল মান্নান শ্যামনগর পৌরসভার চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে এবং পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা ওই বাড়িতে গেলে ভেতর থেকে আটকানো দরজা ভেঙে মান্নানকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করা হয়। তারা জানান, ওই নারী ও মান্নান একটি এনজিওতে কাজ করার সূত্রে পূর্বপরিচিত ছিলেন।
চম্পা রানী মল্লিকের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা এবং নানা ধরনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে মান্নান তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বৃহস্পতিবার বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, মান্নানকে ওই নারীর শোবার ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলো নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের ৭ জুলাই অন্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে চাঁদা দাবির অভিযোগে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় যুবদল সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া গত ২ মার্চ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায়ও তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
শ্যামনগর পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরিদুজ্জামান বাবু বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে নেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চললেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.