অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন পর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। একটি মাছধরা ট্রলারে একবারে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। পরে মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিলামে মাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। এতে দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা জেলেদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে এফবি জুনায়েদ নামের একটি মাছধরা ট্রলারের জেলেরা বিপুল পরিমাণ ইলিশ শিকার করেন। প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ ধরা পড়ে ওই জালে।
শুক্রবার দুপুরে ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছায়। পরে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। বিপুল পরিমাণ ইলিশের আমদানিকে ঘিরে আড়ত এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আড়ত সূত্রে জানা গেছে, ধরা পড়া ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ মাছ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি ২ হাজার ৮৭৫ টাকা হিসাবে এসব ইলিশের মোট দাম দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা হিসাবে এসব মাছের দাম দাঁড়ায় ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এফবি জুনায়েদ ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, “অন্তত পাঁচ বছর পর একবারে এত বড় পরিমাণের ইলিশ পেয়েছি। একবার জাল ফেলেই প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন লোকসানের পর এই মাছ পেয়ে আমরা খুব খুশি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, “অনেকদিন পর বড় একটি চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দামও বেশি থাকায় জেলেরা ভালো দাম পেয়েছেন। এ বছর এর আগে এমন ভালো খবর পাওয়া যায়নি। এবার ইলিশের সাইজও তুলনামূলক বড়।”
বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে সাগরে ইলিশের এমন প্রাচুর্য অব্যাহত থাকলে জেলেদের দীর্ঘদিনের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.