শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
বটগাছের ছায়ায় ছোট্ট একটি টিনের ছাউনি। সেখানেই গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এক ‘স্বপ্নের পাঠশালা’। বলেশ্বর নদের পাড়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদানের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ। প্রতিদিন এলাকার প্রায় ৩০ জন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার্থী এখানে এসে পরম মমতায় লেখাপড়া শিখছে।
শিক্ষাবঞ্চিত এসব শিশুর জন্য এমন মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের রানাপাড়া গ্রামের শিক্ষানুরাগী ও সাবেক কলেজ শিক্ষক জহরলাল সরকার। তিনি নিজের উদ্যোগ ও অর্থায়নে ২০২৩ সালে এই ব্যতিক্রমী পাঠশালা গড়ে তোলেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রানাপাড়া গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্র। কাছাকাছি কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিশুদের পড়াশোনার জন্য দূরের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দূরের স্কুলে যাতায়াত করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। ফলে এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক জহরলাল সরকার নিজ উদ্যোগে এই পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন।
এই পাঠশালায় প্রায় ৩০ জন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে পাঠদান করা হয়। শুধু পাঠদানই নয়, নিজের অর্থে শিক্ষার্থীদের খাতা, কলমসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করেন তিনি।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা জানান, জহরলাল সরকারের বাবা যতীন্দ্র নাথ সরকারও তৎকালীন সময়ে এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাবার সেই মহতী কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন ছেলে জহরলাল সরকার। তার প্রতিষ্ঠিত পাঠশালার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া শিশুরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
জহরলাল সরকার জানান, তিনি ২০২২ সালে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এলাকার শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের কথা চিন্তা করে ২০২৩ সালে নিজের উদ্যোগে এই পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন।
তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চলছে পাঠশালাটির কার্যক্রম। বটগাছের নিচে নির্মিত ছোট্ট টিনের ছাউনিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। তখন পাঠদান বন্ধ করে শিশুদের অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। এছাড়া বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তা কাদায় ভরে যাওয়ায় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের পাঠশালায় আসাও কঠিন হয়ে পড়ে।
জহরলাল সরকার বলেন, “আমি চাই গ্রামের কোনো শিশুই যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। যতদিন সম্ভব নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এই পাঠশালার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। তবে উদ্যোগটি টিকিয়ে রাখতে সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে ‘স্বপ্নের পাঠশালা’ আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং এলাকার আরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষার সুযোগ পাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.