দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের নিচতলার শ্রেণিকক্ষগুলোতে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ কার্যক্রম। একই সঙ্গে পানিতে তলিয়ে গেছে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ।
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলার একাধিক শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে হাঁটুসমান হয়ে আছে। খেলার মাঠও পানিতে টইটম্বুর। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি দৌলতপুরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের আশপাশে ইংলিশ মিডিয়াম টেসল স্কুল, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকায় আল্লারদর্গা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাতেও পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আল্লারদর্গা বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার পানি বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকে। বছরের একটি বড় সময় মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের চারপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষেও পানি প্রবেশ করে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান ও পাঠগ্রহণে ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পানির কারণে শিক্ষার্থীদের সর্দি, জ্বরসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাছকিয়া আক্তার বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের শ্রেণিকক্ষ, কমনরুম ও শিক্ষকদের অফিসে পানি জমে যায়। বই-খাতা ও স্কুল ড্রেস ভিজে যায়। সারাদিন ভেজা অবস্থায় থাকতে হয়। এতে ঠান্ডা, সর্দি ও জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হয়। অনেক দূরের শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চায় না। আমরা এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চাই।’
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রিহান বলেন, ‘আমাদের ক্লাসরুমে পানি ঢুকে জলমগ্ন হয়ে আছে। প্রতিবছরই এমন হয়। আমার কয়েকজন বন্ধু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অনেকে স্কুলেও আসে না। এতে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।’
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ নীরব বলেন, ‘বছরের প্রায় ছয় মাস মাঠে পানি জমে থাকে। অনেক সময় হাঁটুপানি হয়ে যায়। পানি নেমে গেলেও কাদা, শামুক ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের কারণে খেলাধুলা করা যায় না। খেলতে গিয়ে হাত-পা কেটে যায়। আমাদের খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কোনো কার্যকর উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অনেকে বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুম এলেই শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। বছরের প্রায় ছয় মাস মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, মেধা বিকাশ ও নিয়মিত পাঠগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিদ্যালয় থেকে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ পানি নিষ্কাশনের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে এই দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। যত দ্রুত সম্ভব এখানে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে পাঠদান ও পাঠগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা বলছেন, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন পরিস্থিতি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.