মো. মোকাররম হোসাইন, জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাইয়ে এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার ২০টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল/সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৯৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৩৭ জন। ফলে উপজেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশে। এর বিপরীতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
উপজেলার ২০টি মাদ্রাসার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে পুর ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার ২১ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০টি মাদ্রাসার ৪৯৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ৩৬২ জন। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৭৩ জনই ফেল করেছে।
শুধু পুর ফাজিল মাদ্রাসা নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও উদ্বেগজনক। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, থুপসারা দাখিল মাদ্রাসার ২৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন, পাসের হার ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। মাত্রাই দাখিল মাদ্রাসার ১৪ জনের মধ্যে পাস করেছে দুজন, পাসের হার ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। কাঁটাহার দাখিল মাদ্রাসায় ২০ জনের মধ্যে তিনজন পাস করেছে, পাসের হার ১৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ভূগোইল দাখিল মাদ্রাসায় ৩৩ জনের মধ্যে পাঁচজন পাস করেছে, পাসের হার ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। শিকটা দাখিল মাদ্রাসায় ২৪ জনের মধ্যে চারজন পাস করেছে, পাসের হার ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বেগুনগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসায় ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র পাঁচজন, পাসের হার ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
এমন ফলাফলে শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা স্বাভাবিক বিষয় নয়। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
পুর ফাজিল মাদ্রাসার অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ফেরদৌস আলী বলেন, “ফেল শব্দটি মেনে নেওয়া কঠিন। পরীক্ষা কেন্দ্রে আমাদের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের কারণে আমাদের ফেলের গ্লানি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।”
পুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাহেব আলী বলেন, “শতভাগ ফেল করার বিষয়ে জবাব দেওয়ার মতো ভাষা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হবে।”
কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুনছুর রহমান বলেন, “পুর ফাজিল মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। ফলাফল কেন এমন হলো, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নিজেই বিষয়টি তদারকি করব।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.