নওগাঁ প্রতিনিধি
‘তোমার ফলাফল, তোমার গল্পের শেষ নয়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
সমাবেশে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম, নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রাবেয়া খাতুন, অভিভাবক মিনানুর রহমান মিনু ও শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার।
এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকাসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নিজেদের জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়।
প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো জীবনই একটি সফলতার গল্প। যারা হেরে গিয়ে আবার নতুন করে জীবন সাজানোর চেষ্টা করেন, তারা কখনোই হেরে যান না। তাই এসএসসিতে খারাপ ফলাফল মানেই জীবনে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়—এমন চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি দিনই নতুন সম্ভাবনার দিন। এসএসসির ফলাফল প্রত্যাশামতো না হলেও আগামীতে আরও ভালো করার শক্তি ও সাহস ধারণ করতে হবে। বিশ্বের অনেক সফল মানুষ ব্যর্থতার পর নতুন অনুপ্রেরণায় জীবনকে সাজানোর চেষ্টা করেই আজ বিশ্বে পরিচিত হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেক মানুষ জীবনে তার প্রত্যাশার সবকিছু একসঙ্গে পায় না। আজ যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তারাই আগামী দিনে ভালো কিছু করার সক্ষমতা রাখে।
তিনি আরও বলেন, সন্তান আজ ভালো ফল করতে পারেনি মানেই তার ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেছে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আগামীতে ভালো করার জন্য অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে এবং শিক্ষক, অভিভাবক ও সহপাঠীদের কাছ থেকে নিয়মিত উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, বিশ্বের অনেক সফল ও অর্থশালী মানুষ কর্মজীবনের শুরুতে ছোট ছোট কাজ করেছেন। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দৃঢ় মনোবল। তাই প্রত্যাশামতো ফল না হওয়ায় ভেঙে পড়ে হাল ছেড়ে দেওয়া মানেই নিজেকে পরাজিত করা। বরং নতুন করে প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
আয়োজকরা জানান, চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে সাতটি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি—এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অপ্রত্যাশিত ফলাফল থেকে শিক্ষার্থীদের ঘুরে দাঁড়াতে উৎসাহিত করতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.