আবদুল জলিল, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘর। টিনের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। পলিথিন দিয়ে ঘরটি ঢেকে রাখলেও ভারী বৃষ্টিতে রক্ষা হয় না। ঘরের একমাত্র চৌকিতে খড়কুটো বিছিয়ে তার ওপর কাঁথা পেতে বসবাস করছেন অশীতিপর বৃদ্ধা জহুরা খাতুন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত এই বৃদ্ধার জীবনে এবার আশার আলো দেখিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদ।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের জজিরা গ্রামের বাসিন্দা জহুরা খাতুনের স্বামী আফসার আলী মারা গেছেন প্রায় দেড় যুগ আগে। ভূমিহীন জহুরার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ছোট ছেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে বার্ধক্য ও অসুস্থতার সঙ্গে দারিদ্র্যেরও কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে তাকে।
বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলেই তার জরাজীর্ণ ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ে। ফলে ঘরের মধ্যেই ভিজে থাকতে হয় তাকে। থাকার জায়গাটিও নিজের নয়; স্থানীয় এক ব্যক্তি মানবিক কারণে সেখানে বসবাসের সুযোগ দিয়েছেন।
জহুরা খাতুনের এমন দুরবস্থার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজার। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে তিনি সরেজমিনে জহুরা খাতুনের বাড়িতে ছুটে যান।
এ সময় জহুরার ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন। বৃষ্টির পানি যাতে ঘরে না পড়ে, সে জন্য আপাতত টিনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহিনুল ইসলাম শাহিন বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে জহুরা খাতুন শয্যাশায়ী। তার একটি ছেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। যে জায়গায় তিনি বসবাস করছেন, সেটিও তার নিজের নয়। একজন দয়াবশত তাদের থাকতে দিয়েছেন। আজ এমপি স্যার ঘর করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আশা করি, জহুরা খাতুনের থাকার কষ্ট দূর হবে।”
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী পলাশ শেখ বলেন, “জহুরা খাতুনের পলিথিনে মোড়ানো ঘর দেখে সংবাদ প্রকাশ করি। এরপর এমপি স্যার বিষয়টি জানতে পেরে আজ তার বাড়িতে এসে ঘর করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।”
সংসদ সদস্য সেলিম রেজা বলেন, “স্থানীয় সাংবাদিকের সংবাদে বিষয়টি জানতে পেরে আমি আজ জহুরার বাড়িতে এসেছি। আপাতত টিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি, যাতে বৃষ্টিতে ঘরে পানি না পড়ে। এরপর ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা দেব। পাশাপাশি ওই পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বও আমি নিয়েছি। আজকেই পুরো মাসের চাল-ডাল দেওয়া হয়েছে।”
এমপির এমন উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা দেখা দিয়েছে। জহুরা খাতুনের দীর্ঘদিনের আবাসন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.