মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উপজেলা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৪র্থ পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় ‘ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদকরণ’ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এ প্রকল্পের জন্য মোট ২ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছিল।
প্রশিক্ষণে ট্রেইনারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বাবদ কত টাকা বরাদ্দ বা ভাতা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অস্পষ্টতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, তারা প্রশিক্ষণে শুধু দুপুরের খাবার পেয়েছেন, কেউ কেউ এর সঙ্গে ৫০০ টাকা করে ভাতা পেয়েছেন। তাদের দাবি, খাবার ও নামমাত্র ভাতাবাবদ আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকতে পারে। ফলে বরাদ্দের বাকি অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে অন্য কয়েকজন কর্মচারী জানান, তারা দুপুরের খাবারের পাশাপাশি ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অর্থবছরের শেষ সময়ে জুন মাসে বরাদ্দ পাওয়ায় অর্থ তামাদি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রকল্পের সভাপতি ও কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। অফিস থেকে একদিন ফোন করে শুধু আমার ভালো নামটি জানতে চেয়েছিল। এরপর আর কোনো কিছু জানানো হয়নি।”
প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) আব্দুস ছালাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংক্ষেপে তিনি বলেন, “৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকতার জাহান সাথী প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “সবাইকে সম্মানী ভাতা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হয়েছে।” তবে সম্মানী ভাতার নির্দিষ্ট পরিমাণ জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
ইউএনও আরও বলেন, “উপজেলার ৪১টি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালের মধ্যে ৩০টি দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যারা ভাতা পাননি বলছেন, তারা হয়তো বানিয়ে বলছেন।”
প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকার কত অংশ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে এবং অবশিষ্ট অর্থ কীভাবে ব্যয় বা সমন্বয় করা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.