ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে একটি রেস্টুরেন্টের ফ্রিজে বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়ার ঘটনায় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মদ ও বিয়ার উদ্ধারের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গত ১৭ আগস্ট বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব পালের নেতৃত্বে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় খাবাসপুরের ‘হান্ডি কড়াই’ নামের রেস্টুরেন্টের ফ্রিজ তল্লাশি করে এক লিটার ধারণক্ষমতার একটি বোতল বিদেশি ‘রেড লেভেল’ মদ ও একটি বিদেশি বিয়ার পাওয়া যায়।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে খবর দিলে সংস্থাটির ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসানের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে উদ্ধার হওয়া মদ ও বিয়ার ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মো. আলমগীর হোসেনকে (৪৫) পাঁচ দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সংক্রান্ত মোবাইল কোর্ট মামলার নম্বর ১২২/২৬।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকে উদ্ধার হওয়া মদ ও বিয়ারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ছড়িয়ে পড়া ছবির একটিতে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব পালকে রেস্টুরেন্টের একটি টেবিলে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের সামনে একটি বিদেশি মদের বোতল ও একটি বিয়ারের বোতল রয়েছে। অন্য ছবিতে রেস্টুরেন্টের বেসিনে হাতুড়ি দিয়ে বোতলগুলো ধ্বংস করার দৃশ্য দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আতিক হাসান নামে এক ব্যক্তি খাবাসপুর এলাকায় তিনটি ঘর ভাড়া নিয়ে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, ‘স্টার কাবাব’ ও ‘হান্ডি কড়াই’ নামের পৃথক খাবারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। হান্ডি কড়াইয়ে বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও সেখানে মাদক কীভাবে পৌঁছাল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে রেস্টুরেন্ট মালিক আতিক হাসান তার প্রতিষ্ঠানে অভিযান ও মদ-বিয়ার পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে সময় দিতে পারেন না। ম্যানেজার ও তার এক ভাগ্নে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করেন। রেস্টুরেন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় মদ-বিয়ার সেখানে কে রেখেছে, তা তিনি জানেন না বলেও দাবি করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত অভিযানে গিয়ে হান্ডি কড়াই রেস্টুরেন্টের ফ্রিজে বিদেশি মদ ও বিয়ার পান। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুযায়ী প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পরে উদ্ধার হওয়া মদ ও বিয়ার ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে রেস্টুরেন্ট মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ম্যানেজারকে কেন সাজা দেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব পাল জানান, হান্ডি কড়াই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ওই রেস্টুরেন্টের ফ্রিজে মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। তবে মাদকগুলো খোলা অবস্থায় ছিল নাকি অন্য কোনোভাবে সংরক্ষিত ছিল, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের ওই স্থানে মাদক রাখার বিধান না থাকায় ম্যানেজারকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.