শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন এবং বাজারে পাটের সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় সোনালি আঁশ ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন বাগেরহাটের চিতলমারীর পাটচাষিরা। পাট চাষে আবারও আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। দেশের পাটকলগুলো সচল হলে এ খাতে আবারও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাটজাত শিল্পকে টিকিয়ে রাখা গেলে চাষিরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন বলেও মনে করছেন অনেকে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন আবাদি ও অনাবাদি জমিতে পাটের আবাদ করেছেন কৃষকরা। কৃষিপ্রধান এ এলাকার চাষিরা আগাম ফসল ঘরে তুলতে সবসময় তৎপর থাকেন। বিশেষ করে চিংড়ি ও সবজি চাষে এ উপজেলার কৃষকরা দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছেন। তবে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় এবার পাট চাষের প্রতিও তাদের আগ্রহ বেড়েছে।
এ বছর চিতলমারী উপজেলায় ৮৮১ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের পাটের আবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে জমি থেকে পাট কাটার কাজ শেষের দিকে। অনেক কৃষক পাট কেটে পানিতে জাগ দেওয়ার পাশাপাশি আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাজারদর ভালো থাকলে পাট চাষ করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।
উপজেলার চিংগুড়ি গ্রামের পাটচাষি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গোলাম কিবরিয়াসহ স্থানীয় কৃষকরা জানান, একসময় মধুমতি ও বলেশ্বর নদীর চর এবং ধানের জমিতে ব্যাপকভাবে পাটের আবাদ হতো। তখন সোনালি আঁশের সুদিন ছিল। দেশের পাটকলগুলো সচল থাকায় কৃষকরা পাটের ভালো দাম পেতেন।
তারা জানান, বর্তমানে এক বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণ পাট উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে প্রকারভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এক বিঘা জমির পাটখড়ি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব। বাজারদর ভালো থাকলে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
পরিবেশকর্মী বাবলু মণ্ডল বলেন, পাট রপ্তানির মাধ্যমে একসময় বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করত। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পাটের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। পাশাপাশি দেশের বাজারেও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে প্লাস্টিক ও পলিথিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় পাটের তৈরি পণ্য ব্যবহার পরিবেশবান্ধব বিকল্প হতে পারে।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ বলেন, পাট চাষ একটি লাভজনক কৃষি। পাট চাষের মাধ্যমে একদিকে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন, অন্যদিকে পাট চাষের ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে। কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.