রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়ায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ থেকে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পর অব্যবহৃত পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার রঘুনাথপুর ও সাহস ইউনিয়নে দুটি খাল পুনঃখননের জন্য সরকার মোট ৩ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার ৭৬৯ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণ পার্শ্বের আশি ফুট পর্যন্ত এবং সাহস ইউনিয়নের ডোলভাঙ্গা খাল থেকে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে তেলিখালি গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত খননকাজ করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে একদিকে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় পরিশোধের পর বরাদ্দের ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা অব্যবহৃত থাকে। পরে আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আরিফ হোসেন বলেন, দুটি খাল পুনঃখননের জন্য ৩ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার ৭৬৯ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পর ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা অবশিষ্ট থাকে। বিধি অনুযায়ী ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তবে অতিবৃষ্টি ও মাটির প্রকৃতিগত সমস্যার কারণে প্রকল্পের সব কাজ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর নিমতলা খালের নির্ধারিত ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার খনন করা সম্ভব হয়েছে।
প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটি কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছে। কাজের পরিমাণ ও ব্যয়ের বিষয়টিও নিয়মিত তদারকির আওতায় রাখা হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, “সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা। তাই এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। নিয়ম অনুযায়ী যতটুকু কাজ হয়েছে, ঠিক ততটুকুরই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি অর্থের অপচয় কমানো সম্ভব।
খাল দুটি পুনঃখননের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.