শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চায়ের দোকানদার ফারুক শেখ (৪৮) হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন ছোটভাই বারেক শেখ (৪৪) ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বারেকের পরিকল্পনাতেই কর্মচারী আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) ও রুবেল শেখ (৩০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফারুককে হত্যা করেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মন্ডল পাড়ার ওয়াজেদ সরদারের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম এবং একই গ্রামের বাবু শেখের ছেলে মো. রুবেল শেখ। পুলিশ তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তাক্ত ধারালো দা এবং তাদের পরিহিত রক্তমাখা জিন্স ও টি-শার্ট উদ্ধার করেছে।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা এলাকার নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ফারুক শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন বস্তুগত ও জৈবিক আলামত সংগ্রহ করে। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। ধারাবাহিক অভিযানে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং নিহত ফারুকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনযাপন নিয়ে ক্ষোভ থেকে ছোটভাই বারেক শেখ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি চায়ের দোকানের কর্মচারী আলম ও রুবেলকে সম্পৃক্ত করেন।
পুলিশ আরও জানায়, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতদিয়া রেলস্টেশনে বসে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। এ সময় আলম ও রুবেলকে সাময়িক খরচের জন্য ১ হাজার ৭০০ টাকা দেন বারেক।
পরদিন শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর আলম ও রুবেল বারেকের বাড়িতে যান। সেখানে আগে থেকে রাখা দুটি ধারালো দা তাদের হাতে দেন বারেক। পরে তিনি বাড়ির বাইরে অবস্থান নেন। পুলিশের দাবি, এ সময় আলম ও রুবেল শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে থাকা ফারুককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে অস্ত্র দুটি বাড়ির টয়লেটের পাশে ময়লার স্তূপের আড়ালে রেখে তারা পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তারের পর আলম ও রুবেলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে তাদের দেখানো স্থান থেকে দুটি রক্তাক্ত ধারালো দা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে রক্তের দাগযুক্ত জিন্সের প্যান্ট ও টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদের আদালতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.