ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজীতে কথিত পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে চার সন্তানের জননী ও দুই সন্তানের জনককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে শাহ জালাল বাবর, সৈয়দ আহমদের ছেলে হাসান এবং আবু বক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী শুক্কুরের নেছা। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে পরদিন মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তার পুলের গোড়া এলাকায় কথিত পরকীয়ার অপবাদে কামরুন নাহার রুনা ও জয়নাল আবেদীন এরশাদ উল্যাহ নামের দুই নারী-পুরুষকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
ঘটনার পর গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় নির্যাতনের শিকার জয়নাল আবেদীন এরশাদের বাবা আবু সফিয়ান বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলাটি সোনাগাজী মডেল থানার মামলা নম্বর-২২, তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৬।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, তার ছেলে এরশাদ গত ২৪ আগস্ট রাতে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তার নিকটাত্মীয় কামরুন নাহার রুনার বাড়িতে যান। রুনা সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরগণেশ এলাকার নুর আলমের স্ত্রী। এ সময় অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে রুনাকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে আনেন এবং এরশাদকেও আটক করে নির্যাতন করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, দুইজনের গলায় জুতার মালা পরিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও ওই নারীর কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের জন্য চাপ দেওয়া হয়।
পরে ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই নারীর চার সন্তান এবং ওই পুরুষের দুই সন্তান রয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ইতোমধ্যে তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.