জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) আন্তবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলতে গিয়ে ডান হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন গণিত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফ্রিদি সালমান রানা। তাঁর চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ও সহপাঠীরা। এমনকি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর উদ্যাপনের জন্য পাওয়া অর্থও তাঁর চিকিৎসায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সতীর্থরা।
গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনালে গণিত বিভাগ ও সমাজকর্ম বিভাগ মুখোমুখি হয়। প্রথমার্ধের খেলা শেষে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিতে গিয়ে ডান হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান আফ্রিদি। পরে হাসপাতালে নিয়ে এমআরআই করানো হলে তাঁর ডান হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এদিকে ফাইনালে সমাজকর্ম বিভাগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় গণিত বিভাগ। শিরোপা জয়ের পর উদ্যাপনের জন্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ শাহজালাল, টিম ম্যানেজার আবুল হায়াত সজীবসহ আরও দুই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দুটি খাসি কেনার অর্থ উপহার দেন। তবে সতীর্থের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় আনন্দ-উদ্যাপন বাতিল করে ওই অর্থ আফ্রিদির চিকিৎসায় দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা।
আফ্রিদির উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে তাঁর পরিবার। এ অবস্থায় সহায়তা চেয়ে জাবিপ্রবি উপাচার্য ড. মো. আমির হোসেনের কাছে আবেদন করেন আফ্রিদির বড় ভাই। উপাচার্য তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
উপাচার্য ড. মো. আমির হোসেন বলেন, “খেলতে গিয়ে এমন চোট পাওয়া আসলেই দুঃখজনক বিষয়। তাঁকে সুস্থ করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যতটুকু সাহায্য করা দরকার, আমরা তার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব।”
আফ্রিদির আহত হওয়ার ঘটনায় ব্যথিত গণিত বিভাগের শিক্ষকরা। বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, “আমরা আফ্রিদির দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করি। তাঁর জন্য আমাদের জায়গা থেকে যতটুকু করা দরকার, তা করার চেষ্টা করব।”
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আফ্রিদির চিকিৎসায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা এমন একজন ভালো খেলোয়াড়কে হারাতে চাই না। আমাদের পক্ষ থেকে যতটা সাহায্য-সহযোগিতা করা যায়, আমরা করে যাব।”
সতীর্থের চিকিৎসাকে উদ্যাপনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.