ওমর ফারুক, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত প্রবাসীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে তাঁদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে নিহত সাত প্রবাসীর মরদেহবাহী গাড়ি আত্রাইয়ে পৌঁছায়। সকালে কফিনগুলো কলেজ মাঠে আনা হলে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ। প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখতে শত শত মানুষ কলেজ মাঠে ভিড় করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণমাধ্যমকর্মীসহ হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কফিন নিয়ে মরদেহবাহী গাড়িগুলো কলেজ মাঠে প্রবেশ করলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কফিনগুলো একনজর দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয়রা।
জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক মো. তছলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নওগাঁ জেলা শাখার কর্মপরিষদ সদস্য মো. খবিরুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। তাঁদের মধ্যে ১১ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নেয়। সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে নয়জনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
আত্রাইয়ে আসা সাতজনের মধ্যে রয়েছেন—পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার (৪৫); বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের বাদল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা সুমন (২৫); কালিকাপুর ইউনিয়নের গণ্ডগোহালী গ্রামের গফফার রহমানের দুই ছেলে মোহন আলী (৩০) ও সুমন (২৭); একই গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল হোসেন (৩১); বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন (২৮); এবং শাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের ময়েণ শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩৫)।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নিহত আত্রাইয়ের ১১ জনের মধ্যে সাতজনের মরদেহের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বাকিদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়ায় মরদেহ দেশে ফিরতে বিলম্ব হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে সরকারের ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার ১১ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধার অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সহযোগিতায় সাতজনের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.