নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় নিজের পরিচয় গোপন করে ভুয়া জন্মনিবন্ধন ব্যবহারের মাধ্যমে এক তরুণীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের প্রায় চার মাস পর ওই তরুণীকে নিয়ে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। এতে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ চকবাবুল গ্রামে। নিখোঁজ তরুণীর নাম মোছা. সুমাইয়া আক্তার।
তরুণীর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মার্চ ২০২৬ নওগাঁর একটি কাজী কার্যালয়ে সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে ওই যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তিনি নিজের নাম ‘মো. ইমরান’ এবং বাবার নাম ‘ইব্রাহিম’ উল্লেখ করেন। জন্মনিবন্ধনে তাঁর ঠিকানা হিসেবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের বড় মেরুং গ্রামের ঠিকানা দেওয়া হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ টাকা।
তবে সুমাইয়ার পরিবারের দাবি, ওই যুবকের প্রকৃত নাম দ্বীপ্পো চাকমা। তাঁর বাবার নাম গোলক চাকমা এবং মায়ের নাম কল্পনা চাকমা। তাঁর বর্তমান ঠিকানা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বড়দাম গ্রাম বলে দাবি করেছে পরিবারটি।
পরিবারের ভাষ্য, বিয়ের পর প্রায় চার মাস সুমাইয়ার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করেন ওই যুবক। পরে নিজ গ্রামের কথা বলে সেখান থেকে চলে যান। গত ১৭ জুলাই তিনি সুমাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর ২১ জুলাই থেকে তাঁর সঙ্গে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্বজনদের।
সুমাইয়ার মা বলেন, “আমার মেয়েকে বিয়ে করার সময় সে নিজের পরিচয় ও ঠিকানা অন্যভাবে জানিয়েছে। বিয়ের পর চার মাস আমাদের সঙ্গে ছিল। পরে মেয়েকে নিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। বিয়ের সময় যে মুঠোফোন নম্বরগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতেও এখন যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। আমরা মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।”
তিনি আরও বলেন, “দিন-রাত ঘুমাতে পারছি না। মেয়েটা কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—কিছুই জানি না। আমরা চাই দ্রুত মেয়ের সন্ধান পাওয়া যাক এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হোক।”
তরুণীর পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় দেওয়া জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করতে গিয়ে ওই যুবকের পরিচয় নিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তবে জন্মনিবন্ধনটি ভুয়া কি না এবং যুবকের প্রকৃত পরিচয় কী—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয় বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। তবে মেয়ের সন্ধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.