শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত বাসিন্দাদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও পুনর্বাসন চাহিদা নিরূপণে ‘আর্থসামাজিক ও পুনর্বাসন চাহিদা নিরূপণ জরিপ-২০২৬’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৩টায় দৌলতদিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ কার্যক্রমে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করছে। জরিপ কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় ছয়টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সহযোগিতা করছে। সংস্থাগুলো হলো—মুক্তি মহিলা সমিতি (এমএমএস), কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থা (কেকেএস), গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, পায়াকট বাংলাদেশ, শাপলা মহিলা সংস্থা (এসএমএস) ও হাউস অব হোপ বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে সরকারি তথ্য কার্যক্রমের আওতায় আনা এবং তাদের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত চাহিদা চিহ্নিত করতেই এ জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জরিপে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নিজাম উদ্দিন, জেলা এনজিও ফেডারেশনের সভাপতি মো. লুৎফর রহমান লাবুসহ সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তি মহিলা সমিতির প্রজেক্ট ডিরেক্টর আতাউর রহমান মঞ্জু, কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থার (কেকেএস) প্রজেক্ট অফিসার পথিক কুমার পাল, পায়াকট বাংলাদেশের ম্যানেজার মো. মজিবুর রহমান জুয়েল, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. জুলফিকার আলী, শাপলা মহিলা সংস্থার প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসার মো. খোরশেদ আলমসহ যৌনপল্লীর বাসিন্দারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের বাস্তব জীবনযাত্রা ও প্রয়োজন চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, জরিপের মাধ্যমে তা নিরূপণ করা হবে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সমাজের কোনো জনগোষ্ঠী যেন সরকারি সেবা ও আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জরিপের মাধ্যমে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তাদের নিরাপত্তা ও আইনগত সহযোগিতার বিষয়েও থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা বলেন, “সরকারি পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা ও পুনর্বাসনের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণে এ জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, জরিপে সংগৃহীত তথ্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তীতে এসব তথ্যের ভিত্তিতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের জন্য উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম গ্রহণে সহায়তা পাওয়া যাবে।
পল্লীর বাসিন্দারা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে বসবাস করছেন তারা। তাদের বাস্তব পরিস্থিতি সরকারি পর্যায়ে উঠে এলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে বলে তারা আশা করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.