অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে দীর্ঘ ১৫ বছর ঘরবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সালেহা বেগম। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘর থেকে তাকে বের করে এনে প্রশাসনের সহায়তায় চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকার ওই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে অনেকটা বন্দিজীবন কাটাচ্ছিলেন সালেহা বেগম। তার ছেলে জিয়াউর রহমান তাকে ঘর থেকে বের করে আনেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বামী আবুল কালামের মৃত্যুর পর থেকেই জরাজীর্ণ ওই ঘরে একাকী জীবন কাটাচ্ছিলেন সালেহা বেগম। দীর্ঘ ১৫ বছরে তাকে একবারের জন্যও ঘরের বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। এমনকি কারও সঙ্গে কথা বলতেন না তিনি। তার গোসল কিংবা প্রাকৃতিক কাজ কোথায় সারতেন, সেটিও ছিল অনেকের অজানা।
তার মেয়ে লাকী বেগম নিয়মিত খাবার দেওয়ার চেষ্টা করতেন। তবে সালেহা বেগমের ছেলে জিয়াউর রহমান নিজেও যক্ষ্মা ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মায়ের যথাযথ দেখাশোনা করতে পারেননি।
সালেহা বেগমকে ঘর থেকে বের করে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনায় উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী। তারা তার সুচিকিৎসার পাশাপাশি বসবাসের জন্য একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সালেহা বেগমের ছেলে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমার নিজের অসুস্থতার কারণে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। মাকে সাহায্য করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার মায়ের বাসস্থানটি যদি ঠিক করে দেওয়া হয়, তাহলে পরিবেশের কারণে হয়তো আমার মা আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন।’
কলাপাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ববি মালাকার বলেন, ‘তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আপাতত কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। কিছু রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা ও বুকের ইসিজি করতে দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর তার শারীরিক সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, ‘কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া এলাকায় সালেহা বেগম নামে একজন নারী প্রায় ১৫ বছর ধরে ঘরের বাইরে বের হননি। তাকে দীর্ঘদিন কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে দেখেননি। তার মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তার ছেলের সহায়তায় আমরা তাকে ঘর থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি এবং তার চিকিৎসা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তার চিকিৎসাসেবা, বাসস্থানসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করা হবে।’
দীর্ঘ ১৫ বছর পর সালেহা বেগমের ঘর থেকে বের হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এখন তার সুচিকিৎসা ও নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.