অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন দিন বয়সী এক নবজাতকের পা ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের নার্সদের অবহেলাকে দায়ী করেছেন শিশুটির বাবা-মা। তবে অভিযুক্ত নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, শিশুটির পা কীভাবে ভেঙেছে তা তারা নিশ্চিত নন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টার দিকে পৌর শহরের ফেরিঘাট এলাকার ম্যাক্স হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার। তাদের দাবি, চোখে জন্ডিসের উপসর্গ থাকায় নবজাতককে ফটোথেরাপি দেওয়ার জন্য হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের থেরাপি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর শিশুটি উচ্চস্বরে কান্না শুরু করে। পরে তার একটি পা ফুলে যেতে দেখা যায়।
শিশুটির বাবা জানান, বিয়ের ছয় বছর পর প্রথম সন্তানের বাবা হয়েছেন তিনি। সন্তানকে নিয়ে আনন্দের মধ্যেই হাসপাতালের নার্সদের অবহেলার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, শিশুটির পা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জানায়নি। এমনকি পায়ের এক্স-রে রিপোর্টও তাদের দেখানো হয়নি।
শিশুটির মা জান্নাতি আক্তার কনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি প্রথমবার মা হয়েছেন। তার অভিযোগ, নার্স খাদিজা শিশুটিকে ফটোথেরাপি দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়ার পরই তার পা ফুলে যায় এবং পরে পা ভাঙার বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. নাহিদ বলেন, নবজাতকের পা ঠিক কীভাবে ভেঙেছে, তা তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে শিশুটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং চিকিৎসার ব্যয়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
অভিযুক্ত নার্স খাদিজা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি যখন শিশুটিকে ফটোথেরাপি দিয়েছেন, তখন তার পা ভাঙেনি।
এদিকে শিশুটির চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত কলাপাড়া হাসপাতালের জুনিয়র শিশু কনসালট্যান্ট জানান, ২৯ আগস্ট জন্মের পর শ্বাসকষ্টজনিত কারণে নবজাতককে তার কাছে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসার পর শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠে। পরে শিশুটির জন্ডিস রয়েছে বলে অভিভাবকরা জানান। এরপর তারা ম্যাক্স হাসপাতালে ফটোথেরাপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটির বাবা তার কাছে এসে জানান, ফটোথেরাপি দেওয়ার পর শিশুটির একটি পা ফুলে গেছে এবং সে অনেক কান্না করছে। পরে দুপুর ২টার দিকে ম্যাক্স হাসপাতাল থেকে নাহিদ নামে একজন ফোন করে শিশুটির সমস্যা হওয়ার কথা জানান।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকার কথা জানান। কর্মস্থলে ফিরে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর তাদের বিষয়টি নিয়ে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগটির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে নবজাতকের পা ভাঙার প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.