রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর পৌরসভায় সরকারি অর্থ বরাদ্দ থাকার পরও নির্ধারিত সময়ে উন্নয়নকাজ শেষ হয়নি। রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে নোংরা পানি বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশন নেটওয়ার্কের নকশাগত ত্রুটি, অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনবিহীন রাস্তা নির্মাণ এবং নির্মাণাধীন ড্রেনের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বাজার ও আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাচ্ছে।
জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে এলজিইডির অধীনে আইইউজিআইপি প্রকল্পের ১ নম্বর প্যাকেজের আওতায় মনিরামপুর পৌরসভায় রাস্তা ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণের জন্য ১৩ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত অর্থের আওতায় কাজ শেষ করার চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল ২৬ জুলাই ২০২৬। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও বিভিন্ন স্থানে কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পৌর এলাকার অধিকাংশ ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার আগে বাড়ির মালিকরা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে ছোট আকারের ড্রেন নির্মাণ করেন। পরে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর কিছু ড্রেন নির্মাণ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব ভূমির উচ্চতা ও ড্রেনের গভীরতার মধ্যে সামঞ্জস্য নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ড্রেন থাকলেও পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হচ্ছে না।
চলতি বর্ষা মৌসুমে ড্রেনবিহীন সড়ক এবং বিভিন্ন স্থানে অর্ধসমাপ্ত ড্রেনের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের পানি উপচে পড়ছে। একই সঙ্গে ড্রেনের নোংরা পানি ঘরে ঢুকে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাপস কুমার বলেন, ‘নিজেদের খরচে ড্রেন নির্মাণ করে নদীতে পানি নামানোর ব্যবস্থা করতে হয়েছে।’
৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অশীষ চন্দ্র বলেন, ‘পৌরসভা প্রতিষ্ঠার আগেই বাড়ি নির্মাণের সময় নিজেদের খরচে ৫ থেকে ৮ ইঞ্চি ড্রেন তৈরি করা হয়েছিল। বৃষ্টির সময় বাজারের নোংরা পানি মানুষের উঠান ও ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ঘরের পানি সরাতে ছোট ওয়াটার পাম্প ব্যবহার করতে হয়।’
৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রশীদ শিহাব বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বরাদ্দকৃত ড্রেনগুলোর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেটি না হওয়ায় পৌরবাসী সুফলের পরিবর্তে আগের তুলনায় বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ড্রেন নির্মাণকাজে বেজ ঢালাই ও রড বাঁধার কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিচ্ছিন্নভাবে নির্মিত ড্রেনগুলো মূল আউটলেট বা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত না করায় জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রব স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরামপুর পৌরসভার প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কাজ চলমান আছে।’
অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, ‘ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে একটি টিম পরিদর্শন করে গেছে। ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।’
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.