উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর কাজ দেড় বছর আগে শেষ হলেও এখনো নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি। সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে বিরোধ। জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিপরীতে উপজেলা প্রকৌশলী জমিটি সরকারি খাস বলে দাবি করলেও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলছেন, চূড়ান্ত গেজেট না হওয়ায় জমিটিকে খাস বলা যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সন্ধ্যা নদীর ওপর ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি দেড় বছর আগে নির্মাণ শেষ হয়েছে। কিন্তু সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় তা কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। স্থানীয় মানুষ অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে মই দিয়ে সেতুর ওপর উঠে চলাচল করছেন।
সেতুর পূর্ব প্রান্তে সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবিত এলাকায় রয়েছে কয়েকটি কবরস্থান। এ নিয়ে স্থানীয় জমির মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, পৈতৃক জমি ও বাপ-দাদার কবরের ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জমির মালিকানা দাবিকারী আবদুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় তাদের জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে কবরস্থান সরিয়ে নেওয়ার জন্যও বলা হচ্ছে। এতে রাজি না হলে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের জেলা প্রশাসক ও এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাছুম হাওলাদার।
স্থানীয়রা বলছেন, উন্নয়নের নামে কোনো ব্যক্তির জমি দখল করার সুযোগ নেই। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জমির মালিকানা যাচাই এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়নি কেন—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, “সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সরকারি খাস হওয়ায় সংযোগ সড়ক নির্মাণে সময় লাগছে।”
অন্যদিকে উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল বলেন, “সেতুর সংযোগ সড়কের বিরোধপূর্ণ জমিটিকে আমি খাস বলতে পারছি না। কারণ, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত গেজেট হয়নি।”
এদিকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়কবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ করে আইনানুগভাবে বিরোধের নিষ্পত্তি করে সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.