নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে আলোচনায় আসা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে পুরনো একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, সিফাতের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সিফাতকে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর ভাষায় বক্তব্য দিতে দেখা যায়। একই ভিডিওতে তিনি বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এবং লোডশেডিং নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
তবে পুলিশ বলছে, শুধু ওই বক্তব্যের কারণে নয়, সিফাতের বিরুদ্ধে আগে দায়ের হওয়া একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, সিফাতের বক্তব্য আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার কথাবার্তা ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পুলিশের কাছে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল আয়োজন ও সংগঠিত করার সঙ্গে সিফাতের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, কোনো ব্যক্তির বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আইনগত অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। সিফাতের ক্ষেত্রেও পাওয়া তথ্য যাচাই করে প্রকৃত বিষয় উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
এদিকে সিফাত আব্দুল্লাহর মুক্তি দাবি করেছেন গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের এমপি সালাউদ্দিন আইউবী। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনার দায়ে সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার ভাষা বা শব্দচয়ন আপত্তিকর হলেও বিদ্যুৎ নিয়ে তার ক্ষোভের বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে।
তিনি অবিলম্বে সিফাতের মুক্তি দাবি করে বলেন, লোডশেডিং ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও গাজীপুর-২ আসনের সাবেক ১১ দলীয় জোট মনোনীত এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খানও সিফাতের গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেন, সিফাতের বক্তব্যের ভাষা বা শব্দচয়ন আপত্তিকর হলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সে পথে না গিয়ে পুরনো একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আলী নাসের খান বলেন, কোনো বক্তব্যের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট অভিযোগে তা করা উচিত। একজন তরুণকে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পেছনে প্রকৃত কারণ কী, সেটিও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি সিফাতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার স্বচ্ছ তদন্ত, তার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিফাতের স্থায়ী বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া এলাকায়। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার বাবার নাম সেকান্দর আলী। তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।
সিফাতের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্য বর্তমানে তদন্তাধীন। একই সঙ্গে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে করা অভিযোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। ফলে সিফাতের বিরুদ্ধে চলমান মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.