নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বাড়াতে বিএড, এমএডসহ আধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে পাঠদান করলেই হবে না। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নতুন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে বিএড ও এমএড প্রোগ্রামের কারিকুলাম আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলক্ষেতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মিলনায়তনে ‘শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে বিএড ও এমএড শিক্ষার গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, বর্তমান পদ্ধতি ও সিলেবাস দিয়ে কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে শিক্ষার্থীদের এমন জ্ঞান ও দক্ষতা দিতে হবে, যা তাদের কর্মজীবনে কার্যকর হবে।
তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষা কার্যক্রমে ৫০টি বিষয়ের প্রায় চার হাজার কোর্স রয়েছে। গত দুই বছরে প্রায় ৪০০টি কোর্সের সিলেবাস সংস্কার করা হয়েছে। আরও কিছু কোর্সের সিলেবাস সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব সিলেবাস সংস্কার করা হবে।
বিএডের সিলেবাস ইতোমধ্যে এক দফা সংস্কার করে অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে ড. আমানুল্লাহ বলেন, বিএডের কারিকুলামকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। শিক্ষাব্যবস্থায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান থাকলেই হবে না, হাতে-কলমে শেখানোর কৌশলও জানতে হবে। বিএড প্রোগ্রামের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়বে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর আরও বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার কী চায়, শ্রমবাজারের চাহিদা কী এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী—এসব বিষয় সমন্বয় করে শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে। টেকনিক্যাল এডুকেশন যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। তবে তাদের সবাই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি নতুন জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ভবিষ্যতের কর্মবাজারের চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষকদেরও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিএড, এমএডসহ বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা জরুরি। আগামী মাস থেকে প্রফেশনাল কলেজের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দক্ষ জনশক্তি তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ বলেন, জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়াতেও দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি অর্ধেকে নেমে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দ্রুত এ সংকট মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কর্মবাজার ও বৈশ্বিক দক্ষতার সমন্বয় করতে হবে। একইভাবে হেলথ প্রফেশনালসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিআইবিটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মামুনুর রশিদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম খান, ক্যান্টনমেন্ট থানা শিক্ষা অফিসার লুৎফুন নাহার, হোপ অ্যান্ড জয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক চিনু দাস, ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ স্বপ্না আক্তার এবং সিআইবিটির সহযোগী অধ্যাপক আবুল হোসেন।
সেমিনারে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাইয়েবা তাসনীম সিরাজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.