মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার ও বাল্কহেড ব্যবহার করে খাল থেকে বালু উত্তোলন এবং কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরের মধ্যেই এসব কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন বাড়ছে ড্রেজার ব্যবসা। এতে আবাদযোগ্য জমি কমার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গীবাড়ী থানার সামনে খালের ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে ধীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বালু সরবরাহ করে জমি ভরাট করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। দিনের বেলাতেও সেখানে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু লোড-আনলোড করতে দেখা যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, ধীপুর ইউনিয়নের পুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় দুই শতক জমি নয়, স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী প্রায় দুইশত শতক কৃষিজমি ভরাটের কাজ চলছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব জমিতে ধান, পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদন হলেও বর্তমানে সেখানে বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা যুবদল নেতা ইকরাম মল্লিক ও থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মাহাবুব আলম রন্টির নেতৃত্বে বালু ভরাটের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে ব্যবসা পরিচালনার কথা প্রকাশ্যে বলে থাকেন। এ কারণে অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না বলে তাদের অভিযোগ। তবে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত—এমন দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ফসলি জমিতে বালু ফেলে ভরাটের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খাল ও জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জমি ভরাটের কাজের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকা মোশাররফ হোসেন বলেন, “ভরাটের সব কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। মাহাবুব আলম রন্টি ভাইয়ের কাছে সব কাগজ আছে। আপনি সন্ধ্যায় আমাদের অফিসে আসেন, সব দেখাব।”
থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মাহাবুব আলম রন্টির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সামনে আসেন, কথা বলি। এ জমির সব কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে।” তবে অবৈধ ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
অভিযোগের বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা যুবদল নেতা ইকরাম মল্লিক বলেন, “এই ড্রেজার মেশিন আমাদের। পুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে যে জমি ভরাট চলছে, সেটা ভিটাবাড়ি। সব কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। ডিসিও কাটা আছে। আপনি আসেন, দেখা করে কথা বলব।”
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আনজুম সোহানিয়া বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
এলাকাবাসী বলছেন, কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং খাল ও জলাধার রক্ষায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও জমি ভরাটের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.