দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবরস্থানে দাফন করা আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীরের লাশ কবর থেকে তুলে দরবার বা আস্তানায় দাফনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নিহতের ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে শনিবার রাতে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পীরের দরবার ও কবরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কবর থেকে আবারও দেহাবশেষ তুলে নেওয়ার আশঙ্কায় পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার পীর শামীমের কবরটি স্থায়ীভাবে পাকা করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর (পাঁচশত বিঘা) কবরস্থানে দাফন করা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের কবর খুঁড়ে তাঁর লাশ বা দেহাবশেষ তুলে একই এলাকায় অবস্থিত তাঁর দরবার বা আস্তানায় দাফন করা হয়।
শনিবার সকালে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন। পরে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে দরবারের ভেতর থেকে পীরের দেহাবশেষ উদ্ধার করে শনিবার বিকেলে তা পুনরায় কবরস্থানে তাঁর নিজ কবরে দাফন করা হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে পীরের দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এ ঘটনায় নিহত পীর শামীমের ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পীরের কবরস্থান ও আস্তানায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, পীরের দেহাবশেষ নিজ কবরে পুনঃস্থাপনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছিল, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি স্থায়ীভাবে পাকা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী দুই শতাধিক মানুষ পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবার বা আস্তানায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা পীর শামীমকে তাঁর কক্ষ থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠিপেটা করে হত্যা করে এবং পরে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। এরপর আস্তানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন ১২ এপ্রিল বিকেলে নিহত পীর শামীমের মরদেহ একই ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর (পাঁচশত বিঘা) কবরস্থানে দাফন করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
পীর শামীম নিহত হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর শুক্রবার দিবাগত রাতে তাঁর ভক্তরা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে দরবারের ভেতরে দাফন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহত পীরের ভাই ফজলুর রহমান সান্টু ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.