বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশীগঞ্জে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে আইনি ঝামেলায় ফেলতে এক মৃত নবজাতককে ব্যবহার করে ‘হত্যার অভিযোগ’ তোলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের আলীরপাড়া গ্রামের মৃত আতর আলীর ছেলে আসলাম, মল্লুক ও শামীমদের সঙ্গে একই এলাকার মৃত আবুল কালামের স্ত্রী রেজিয়া বেগমের পরিবারের প্রায় তিন বছর ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
এই বিরোধের জেরে গত ১৭ আগস্ট রেজিয়া বেগমের ছেলে আলী হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে জামালপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই মামলার ৩ নম্বর আসামি শামীমের স্ত্রী ববি বেগমের গত ২ সেপ্টেম্বর সকালে প্রসব ব্যথা ওঠে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন।
পরিবারের দাবি, প্রসবের আগেই আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভের সন্তানটি মারা যাওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিক থেকে মৃত নবজাতক নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর স্থানীয় একটি মহলের পরামর্শে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ববি বেগমকে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং গর্ভের সন্তানকে মারধর ও লাথি মেরে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তোলা হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে পরিস্থিতি তৈরি হলেও চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, চলমান জমি বিরোধ ও মামলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতেই মৃত নবজাতককে ব্যবহার করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.