গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ‘ধলতা’ ও তোলাবাজি বন্ধ, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ, মানসম্মত বীজ-কীটনাশক স্বল্পমূল্যে দেওয়া এবং উৎপাদন খরচ কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছে উপজেলা কৃষক সমিতি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে গোয়ালন্দ শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাব চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে কৃষক সমিতির নেতারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদার কাছে ১০ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেন।
কৃষক সমিতির নেতারা বলেন, গোয়ালন্দ একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। এখানে ধান, পাট, পেঁয়াজ, রসুন, তিল, তিশি, কালোজিরা ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য ও লাভজনক দাম পাচ্ছেন না। এর সঙ্গে বাজারে ফসল বিক্রির সময় বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও অতিরিক্ত পণ্য নেওয়ার কারণে কৃষকের লোকসান আরও বাড়ছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, কৃষিপণ্য বিক্রির সময় আড়তদাররা প্রতি মণে প্রায় এক-চতুর্থাংশ কেজি পর্যন্ত ‘ধলতা’ নিয়ে থাকেন। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩৯ কেজি ৯০০ গ্রাম বা ৪০ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজন হলেও অতিরিক্ত ৯০০ গ্রাম হিসাবের বাইরে বাদ দেওয়া হয়। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কৃষক সমিতির নেতাদের অভিযোগ, একদিকে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হচ্ছে না। ফলে কৃষকদের স্বার্থে বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কৃষকদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ধলতা ও তোলাবাজি বাতিল, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ, মানসম্মত বীজ ও কীটনাশক স্বল্পমূল্যে দেওয়া, জমির খাজনা, খারিজ ও ক্রয়-বিক্রয়ে সরকার নির্ধারিত ফি গ্রহণ, সেচকাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ এবং বাজারের অব্যবস্থাপনা দূর করা।
এ ছাড়া কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে খাজনার হার নির্ধারণ করে তা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন, প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি কৃষিপণ্য ক্রয়কেন্দ্র চালু, প্রতিটি উপজেলায় হিমাগার স্থাপন, গোয়ালন্দ থেকে কামারডাঙ্গা পর্যন্ত মরা পদ্মার কচুরিপানা সরকারি উদ্যোগে পরিষ্কার করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং উপজেলার খননকৃত খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করাসহ জলাবদ্ধতা নিরসন ও সরকারি জলাশয় জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা কৃষক সমিতির সংগঠক মো. মজিবর রহমান, মো. হাবিবুর রহমান, রতন কুমারসহ কয়েকশ কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, ‘কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা দাবিগুলো যাচাই করে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’
কৃষক সমিতির নেতারা বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলেই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।’ কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে উৎপাদন খরচ কমানো ও উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.