শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে আবারও বেড়েছে বাঘের আনাগোনা। গত এক সপ্তাহে অন্তত তিনটি এলাকায় বাঘের উপস্থিতি ও ডাক শোনার খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে আলীবান্দা ইকোট্যুরিজম স্পটের ফেন্সিংয়ের বেড়া ছিঁড়ে একটি বাঘ ভেতরে ঢুকে পড়ায় বনরক্ষী ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাঘের উপস্থিতিতে পার্কের ফেন্সিংয়ের ভেতরে থাকা হরিণগুলোও ছুটাছুটি শুরু করে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে বগী স্টেশন অফিসের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় কাছাকাছি এলাকা থেকে বাঘের ডাক শুনতে পান বনরক্ষীরা। এর আগের দিন বগী স্টেশনসংলগ্ন ডুমুরিয়া এলাকার নদীর তীরে বাঘের ডাক শোনার কথা বন বিভাগকে জানান স্থানীয় জেলেরা।
তবে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে আলীবান্দা ইকোপার্কে। ফেন্সিংয়ের একটি অংশ ছিঁড়ে বাঘটি পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়লে দায়িত্বে থাকা বনরক্ষীরা নিরাপত্তার জন্য ম্যানগ্রোভ টাওয়ারে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে শরণখোলা রেঞ্জ অফিসের বনরক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে বাঘটিকে পার্ক এলাকা থেকে বের করে দিতে সক্ষম হন।
আলীবান্দা ইকোপার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন বলেন, পার্কটি ফেন্সিং নেট দিয়ে ঘেরা থাকলেও একটি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে বাঘটি ভেতরে প্রবেশ করে। বাঘের উপস্থিতি টের পেয়ে নিরাপত্তার কারণে বনরক্ষীরা টাওয়ারে আশ্রয় নেন। পরে বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে ফাঁকা গুলি ছুড়লে বাঘটি পার্ক এলাকা ছেড়ে বনে চলে যায়। বর্তমানে পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পর্যটকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
শরণখোলা ওয়াইল্ড টিমের ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার বলেন, আলীবান্দা ইকোপার্কে বাঘ ঢোকার খবর পেয়ে তাঁরা বনরক্ষীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান। ফাঁকা গুলির শব্দ করার পর বাঘটি পার্ক এলাকা ছেড়ে চলে যায়। পার্কের ভেতরে থাকা হরিণের উপস্থিতি টের পেয়েই বাঘটি সেখানে ঢুকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, বন্য শূকর ফেন্সিংয়ের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করায় ওই স্থান দিয়ে বাঘটি পার্কের ভেতরে ঢুকে থাকতে পারে। তবে পার্কে থাকা হরিণগুলোর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি বাঘটি। বনরক্ষীরা কৌশলে বাঘটিকে পার্ক এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের বিচরণ করা স্বাভাবিক। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে জেলে-বাওয়ালি, মৌয়াল, বনরক্ষী ও পর্যটকদের দলবদ্ধভাবে চলাচল এবং বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, তিন মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ও বাওয়ালিদের জন্য সুন্দরবন আবার উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে নদী-খালে জেলেদের আনাগোনা বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ইকোট্যুরিজম স্পটেও পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় বাঘের চলাচলের খবর বনজীবী ও পর্যটকদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা তৈরি করেছে।
স্থানীয় জেলেরা বলছেন, বাঘের আনাগোনা সম্পর্কে বন বিভাগ নিয়মিত সতর্কবার্তা ও তথ্য দিলে তাঁরা আরও সতর্কতার সঙ্গে সুন্দরবনে মাছ ধরতে পারবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.